বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগ জন্ম ইতিহাস


জন্ম ইতিহাস
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী, আমাদের স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতির বিশেষ প্রেক্ষাপট বিবেচনা ও ধারাবাহিকতা দেশপ্রেম, ত্যাগ, সততাকে পুঁজি করে দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনীতির এই মহৎ দৃষ্টান্ত স্থাপনের স্বপ্ন এবং সুদৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে সংগঠনের মূলনীতি সেবা, শান্তি, প্রগতিকে প্রাধান্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। পরবর্তীতে সময়ের বিবর্তনে অগণিত নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততায় সংগঠনটির দ্রæত বিকাশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। গনতন্ত্রের নামে ক্ষমতালোভীদের অসুস্থ রাজনীতি চর্চ্চা যখন সর্বত্র মিথ্যাচার অপপ্রচারে ধু¤্রজাল সৃষ্টি করে দেশবাসীকে বিভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করতে এবং আমাদের গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার নীল নকশা প্রনয়ন এবং বাস্তবায়নে তথাকথিত বি,এন,পি স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি জামাতের সাথে আতাত করে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তে লিপ্ত। স্বাধীনতার মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত এই অনাকাঙ্খিত বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত নিষ্ঠাবান নেতা কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে এই সংগঠনটির অবিরাম পথ চলা শুরু হয়।
তখনকার সময় ১৯৯২ সনে বয়সের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করায় ছাত্রলীগ থেকে সদ্য বিদায়ী ৯০’ এর স্বৈরাচার বিরোধী সফল আন্দোলনে যাদের অবদান ছিল নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। যাদের মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সময়ের সাহসী পরীক্ষা উত্তীর্ণ, গঠনমূলক সৃজনশীল চিন্তায় উদ্বুদ্ধ, এক ঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতা। একটি নতুন প্রজন্ম যারা তেজোদীপ্ত তারণ্যের অগ্রগামী সৈনিক, তখন রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত অগ্রসর প্রগতিশীল প্রতিশ্রæতিবান একদল যুবক ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার যোগ্য নেতাদের সমন্বয় এবং ঐক্যবদ্ধ করে কঠোর ও কঠিন দূঃসহ পরিস্থিতি মোকাবেলায় নতুন আঙ্গিকে সময়ের প্রয়োজনে সকল অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াইয়ে দীপ্ত শপথে বলীয়ান হয়ে অকুতোভয় পথ চলতে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ।
স্বেচ্ছাসেবক লীগ জন্ম থেকে বহু কন্টকাকীর্ন পথ পাড়ি দিয়ে অনেক লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া রূপসা থেকে পাথুরিয়া তৃণমূল পর্যন্ত এমন কি প্রবাসেও এর শাখা প্রশাখা বিস্তৃত।
গণতন্ত্রের মানসকণ্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বৈরাচার দূঃশাসনের কবল থেকে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, সন্ত্রাস-দূর্নীতি সম্প্রদায়িকতা, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে, অগ্নীসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিরন্তর লাড়াইয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।
আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা কর্মীরা বি,এন,পি-জামাত জোট সরকারের দমনপীড়ন, নির্যাতন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, প্রতিটি গনতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে রাজপথে আন্দোলনে সব সময়ে ছিল সামনের সারিতে । তেমনি ভাবে ১/১১ পরবর্তী অবৈধ-অসাংবিধানিক শাসনের বিরুদ্ধে এবং মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারান্তরীণ প্রিয় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে সংগঠনের অগনিত নেতা কর্মীর আপোষহীন দৃঢ় অবস্থান সাংগঠনিক দক্ষতা গৌরবদীপ্ত সংগ্রামী ভ‚মিকা প্রমাণিত হয়েছে প্রিয় নেত্রীর হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ তার বিশ্বস্থ ‘ভ্যানগার্ড’।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সৃষ্টির ইতিহাস বা আদ্যাপান্ত জানতে হলে আমাদের ফিরতে হবে একটু পিছনে। ১৯৪৯ সাল ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে আওয়ামী লীগ গঠনের প্রথম কাউন্সিলে যিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন-পরবর্তীকালে ১৯৫৪ সনে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় গনতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়র্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তত্ত¡াবধানে গঠিত স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জননেতা জিল্লুর রহমান সাহেবকে। তখন থেকেই মূলত সাংগঠনিক ভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের এই সংগঠনের গোড়াপত্তন। তৎকালীন পাকিস্তানী ঔপনিবেশিক শাসন-শোষনের বিরুদ্ধে এই স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতা কর্মীরাই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করেন।
তারপর ১৯৬৯ সন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে পাকিস্তান শাষক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে বাংলার জনগণের আন্দোলন সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলিতে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রয়াত জাতীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক সাহেবকে প্রধান করে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে এই সংগঠন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করে। যুদ্ধোত্তর দেশ পূণঃগঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই সংগঠনের নেতা কর্মীরা নিবেদিত থাকেন।
৭৫ পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে এই সংগঠনটির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক আগ্রহ ও প্রচেষ্টা সময়ের প্রয়োজনে ১৯৯৪ সনের ২৭ জুলাই নতুন আঙ্গিকে সুদৃঢ় সাংগঠনিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠনটির পূনঃগঠিত করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা এই সংগঠনের নাম করন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তৎসময়ে একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করেন। আহবায়ক হিসেবে আলহাজ্ব মকবুল হোসেন যুগ্ম আহবায়ক করা হয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব (বহিস্কৃত) এবং সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা কৃষিবিদ আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিমকে। ২০০২ সালে আরো দুজনকে যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে অন্তভ‚ক্ত করা হয় তারা হলেন বাবু পংকজ নাথ ও প্রফেসর আব্দুল হান্নান। এছাড়াও সংঠনের কার্যক্রম গতিশীল ও বেগবান করার জন্য আরো কয়েকটি সাংগঠনিক সেল গঠন করেন। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য প্রচার সেলের প্রধান ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার, সাংগঠনিক সেলে ছিলেন এস এম মান্নান কচি ও দপ্তরসেলে সেলে ছিলেন নির্মল গোস্বামী।
সময়ের বিবর্তনের ধারা ২০০৩ সনে ২৭ জুলাই ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট এ সংগঠনটির প্রথম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার তত্ত¡াবধানে পুর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হন সাবেক মেধাবী ছাত্রনেতা (বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) কৃষিবিদ জননেতা আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম। প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন সাবেক ছাত্রনেতা বাবু পংকজ দেবনাথ। প্রথম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি পূর্ণাঙ্গ সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তারপর স্বেচ্ছাসেবক লীগকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিষ্ঠাতা সভপতি আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর মেধা, প্রজ্ঞা দৃঢ়চেতা ও গতিশীল নেতৃত্বের কারনে দ্রæততম সময়ে সারা দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী আদর্শ ভিত্তিক সহযোগী সংগঠন হিসেবে পরিচিতি এবং সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হওয়া ২০০৯ সনে আগষ্ট মাসে সংগঠনের কার্যনির্বাহী সংসদের সভা সর্বসম্মতিক্রমে অন্যতম সহ সভাপতি অ্যাডঃ মোল্লা মোঃ আবু কাওছারকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়।
কালের পরিক্রমা ২০১২ সন ১১ জুলাই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২য় জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এই সম্মেলনে তথাকথিত ১/১১ নামের অনির্বাচিত সরকারের মাইনাস ফর্মুলায় মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা কারান্তরীন জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তির আন্দোলনে সাহসী নেতা ও সংগঠক দূঃসময়ে সাহসী কান্ডারী সাবেক ছাত্রনেতা ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক জননেতা অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাওছার সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি এবং ২০০৭ এর ১/১১ পরবর্তী অবৈধ অসাংবিধানিক সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মিথ্যা মামলা কারানির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা পংকজ নাথ এমপি-কে পূনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ বর্তমান সুসংগঠিত নেতৃত্বে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল স্তরের নেতা কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ মনোবল নিয়ে সমস্ত ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে কষ্টার্জিত গনতন্ত্র এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখে মুক্তিযুদ্ধোর চেতনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আজন্ম স্বপ্ন সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মাননীয় সফল প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন বলেন-“আমি শাসক নই জনগণের সেবক হতে চাই” আমরা তার এই যথার্থ সর্বজনস্বীকৃত এবং প্রশংসিত উক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার হাতে গড়া সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগ এর প্রতিটি নেতা কর্মীর শপথ:- সেবক হবো গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার নির্দেশ। এই মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে রাজনীতির শ্রেষ্ঠ গুনাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিঃসার্থ ভাবে জনগণের সেবা করার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থাকে প্রধান্য দিয়েই অনাগত দিনগুলিতে অতীতের ন্যায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিটি নেতা-কর্মী দেশপ্রেমে উজ্জিবিত হয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা পুরনের নিরলস ভাবে পথ চলতে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনাই আমাদের শক্তি, সাহস আর অনুপ্রেরণা।
অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে নিরবচ্ছিন্নভাবে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে গৌরবোজ্জল সংগ্রাম ও সাফল্যের পথ বেয়ে উঠা বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেকব লীগ ২৫ (পচিঁশ) বছরে (রজত জয়ন্তী) পদার্পণ ইতিহাসে এক অবিস্মরনীয় অনন্য সাধারণ ঘটনা……………।